কালো থেকে ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায়

পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের মানুষ রয়েছে কেউ কালো কেউ বা ফর্সা আবার কেউবা শ্যামলা বা মধু শ্যামলা। তবে যারা কালো বর্ণের তারা সব সময় চাই নিজেকে ফর্সা করে তুলতে। শরীরের রং ফর্সা করতে বা কালো রং দূর করা খুব একটা সম্ভব না হলেও আজকালকার যুগে কৃত্রিম উপায়ে মানুষ নিজেদের শরীরের কালো রং ফর্সা করে থাকে তবে এটি মোটেও শরীরের জন্য ভালো নয়।

 
কালো থেকে ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায়

কালো থেকে ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়ে থাকছে আমাদের আজকের এই মূল আলোচনা। এছাড়াও আপনাদের জন্য আরও থাকছে স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যসমূহ। তাই আমাদের আজকের পুষ্টি অবশ্যই সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন যেন কাল থেকে ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন।

পেজ সূচিপত্র: কালো থেকে ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায় 


কালো থেকে ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায় 

একটি পাত্রে এক চা চামচ এ অ্যালোভেরার জেল, হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো, হাফ চামচ ব্রেকিং সোডা, সামান্য মধু একসাথে মিশিয়ে একটি পেজ তৈরি করে নিতে পারেন। দিনে যেকোনো সময় বা রাতে এটি শরীরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মেসেজ করে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে শরীরের রং ফর্সা করতে খুব দ্রুত সাহায্য করবে সপ্তাহে তিন দিন এটি ব্যবহার করলে খুব দ্রুত ভালো ফলাফল পাবেন। 

সামান্য মধু, এলোভেরা জেল, লেবুর রস এবং নারকেল তেল একসাথে মিশিয়ে একটি পেজ তৈরি করে নিতে পারবেন আর এই পেস্ট সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। 
মুসুরির ডাল বাটা, নারিকেল তেল, এলোভেরা জেল, মধু এবং লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে একটি পেজ তৈরি করতে পারেন। এই পেজ সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন রাতে শোয়ার আগে বা গোসলের আগে শরীর বা মুখে ব্যবহার করতে পারেন এতে শরীরের ত্বক অনেক উজ্জ্বল বা ফর্সা হবে।

স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায় 

তোকে ভেতর থেকে স্থায়ী প্রশাসন করতে হলে কিছু খাবার নিয়মিত খেতে হবে। উদ্দিন এক গ্লাস দুধের মধ্যে হাফ চামচ বা সামান্য কাঁচা হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে তা শরীরকে ভেতর থেকে ফর্সা করতে সাহায্য করে। 

  1. দুধ, লেবুর রস ও হলুদের গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বা পেস্ট তৈরি করুন। সারা মুখে এই পেজ ভালোভাবে লাগিয়ে প্যাকটি শুকনো হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়ে নরম তয়লা দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। গরম পানিতে মুখ ধোবেন না এবং অন্তত ১২ ঘন্টা রোদে যাবেন না।
  2. প্রতিদিন পুষ্টিকর এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার খান। প্রতিদিন দুই থেকে তিন লিটারের মতো পরিষ্কার স্বচ্ছ পানি পান করতে হবে। এছাড়াও ডাবের পানীয় গায়ের রং ফর্সা করতে সাহায্য করে।

কালো থেকে ফর্সা হওয়া কি সম্ভব 

মানুষের গায়ের রং জন্মগতভাবে হয়ে থাকে। কাল থেকে ফর্সা হওয়া সম্ভব তবে এর জন্য মেনে চলতে হবে কিছু খাদ্য অভ্যাস এবং কিছু রূপচর্চা ও প্রয়োজন। কাল থেকে অসহায়ার জন্য যে কাজগুলো করা প্রয়োজন-

  1. টক দই আমাদের শরীরকে ড্রাক সার্কেল দূর করতে সাহায্য করে। টক দইয়ের সাথে কালোজিরা গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে শরীরের রং ফর্সা করতে সাহায্য করে। 
  2. টমেটোতে রয়েছে অ্যান্টিক অক্সাইড যা কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং ত্বক ফর্সা করে, টক দই এবং হলুদ একসাথে বেটে মাখলে তা খুব দ্রুত ত্বক ফর্সা করতে কাজ করে। 
  3. কাঁচা দুধ এবং হলুদের গুড় একসাথে মাখলে শরীরের রং ফর্সা করতে সাহায্য করে। 
  4. অ্যালোভেরা জেল এবং লেবুর রস একসাথে পেস তৈরি করে তার শরীরে বা মুখে মাখলে শুকিয় যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে গেলে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি ত্বকের রং ফর্সা করতে খুব দ্রুত কাজ করে আর এর সাহায্যে স্থায়ীভাবে ত্বক ফর্সা করা সম্ভব।


ত্বককে ভেতর থেকে ফর্সা করার উপায় 

আমরা নিজেদের রং ফর্সা করতে বা উজ্জল রং পছন্দ করি। এই কারণে মানুষ নিজেদের রং ফর্সা করতে বিভিন্ন প্রসাধনই বা ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করে থাকে। ত্বকের রং ভেতর থেকে ফর্সা করার জন্য ঘরোয়া উপাদানই সবথেকে ভালো। 


  1. আপনি যদি আপনার ত্বকের রং ভেতর থেকে ফর্সা করতে চান তাহলে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এই কাজগুলো মেনে চলুন। 
  2. চার টেবিল চামচ মধুর সাথে দুই টেবিল চামচ কাঁচা হলুদ বাটা মিক্স করে পেস্ট তৈরি করুন। 
  3. তৈরিকৃত পেস্ট আপনার মুখে লাগিয়ে ১ থেকে ২ ঘন্টা রেখে দিন। 
  4. তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। 
  5. কিভাবে এই কাঁচা হলুদ ও মধুর প্যাক সপ্তাহে দুই থেকে চার দিন ব্যবহার করলে ন্যাচারালি আপনি হয়ে যাবেন কাল থেকে ফর্সা। 

কালো থেকে ফর্সা হওয়ার ক্রিম 

শরীরের কালো রং দূর করে ফর্সা হওয়ার জন্য বাজারে অনেক রকম প্রসাধনী বা ক্রিম পাওয়া যায়। আর এ সব প্রসাধনী শরীরের রং কালোর থেকে ফর্সা করতে সাহায্য করে। ছেলে মেয়ে উভয় এ ধরনের প্রসাধন এগুলো ব্যবহার করতে পারবে। কিছু ক্রিম বা পরশুদিনের নাম দেওয়া হল যা কাল থেকে ফর্সা হতে সাহায্য করে-

ডামালজিকা ওভার নাইট ক্লিয়ারিং জেল 

আপনার ত্বকে অনেক ধরনের দাগ ছোপ আছে তাহলে তার প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই ওভার নাইট জেল ব্যবহার করা আপনার পক্ষে খুবই জরুরী। এর অ্যান্টিসেপটি ক, এন্টিবায়োটিক্যাল আর অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান সিবাম নিয়ন্ত্রণ রাখে আর ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে ত্বককে সারিয়ে তোলে, আরাম দেয় বজায় রাখে আদ্রতা। রাতে শুয়ে যাওয়ার আগে মুখে পুরো করে এই জেলটি মাখুন আর সকালে উঠে মুখ ধুয়ে ফেলার পর দেখুন কেমন পরিবর্তন চোখে পড়ছে। 

ল্যাকমে ইয়ুথ ইনফিনিটি স্কিন স্কাল্পটিং নাইট ক্রিম 

ম্যাড়মেড়ে আর ঝুলে যাওয়া তক্ব দেখতেও অসুস্থ লাগে আর তা হতাশার কারণ হয়ে ওঠে! যদি এগুলোই আপনার ত্বকের মূল সমস্যা হয় তাহলে নির্ভর করুন এই অ্যান্টি এজিং নাইট ক্রিম এর উপর। ইতি ত্বকের টানটান ভাব বাড়াই আর ত্বকের বাধুনী দৃঢ় করে। এছাড়াও এই ক্রিমের লুমিনাইজিং পালস তোকে করে উজ্জ্বল ও আরো ঝলমলে। 

স্থায়ীভাবে ফর্সা হওয়ার সাবান 

বাজারে ফর্সা হওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সাবান পাওয়া যায়। যা স্থায়ীভাবে রং ফর্সা করতে সাহায্য করে এই ধরনের সাবান গুলি প্রাকৃতিক ভাবে বা প্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা তৈরি করা হয়ে থাকে। এগুলো আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত ভালো। তাই এই সাবান গুলোই স্থায়ীভাবে ত্বকের রং ফর্সা করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। 

আরো পড়ুন:রসুন ও সরিষার তেলের উপকারিতা

  1. অ্যালোভেরা জেল সাবান 
  2. অরেঞ্জ পিল সাবান 
  3. জিগ্লো কোজিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই সাবান 
  4. জিগ্লো ম্যাক্স কোজিক এসিড 
  5. গলুটাথিয়ন সাবান 
ব্ল্যাক সাবান 

কি খেলে ভেতর থেকে ফর্সা হওয়া যায় 

অনেকেই মসৃণ উজ্জ্বল ত্বক চাই কিন্তু অনেক সময় নিয়মিত যত্ন আর নামিদামি কসমেটিকস ব্যবহারের পরো ত্বকের সুন্দর্য ঠিক থাকে না। টক ঠিক রাখতে খাদ্য অভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম আর স্বাস্থ্যের অবস্থা ভীষণভাবে জরুরী। এছাড়াও অনেক খাবার রয়েছে যা খেলে আপনার ত্বক ভেতর থেকে ফর্সা হবে। 

  1. প্রতিদিন পথ যত পরিমাণে পানি পান করতে হবে 
  2. টমেটো খেলে শরীরের রং ভেতর থেকে ফর্সা হয়, এর অ্যান্টি শরীরে কালো রং দূর করতে সাহায্য করে। 
  3. কলা আমাদের শরীরের আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে, এটিও আমাদের শরীরের কালো রং দূর করে থাকে। 
  4. গাজর যেমন চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে ঠিক তেমনি শরীরের কালো রঙও দূর করতে সাহায্য করে।
  5. আমরা জানি যে বাদাম মূলত ফ্যাট জাতীয় খাবার তবে এটি শরীরের রং ফর্সা করতে সাহায্য করে।

ত্বক ফর্সা করতে হলুদ ও দুধের ব্যবহার 

এক চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা বা হলুদ গুঁড়া নিন, তার সঙ্গে নিন তুই চা চামচ লেবুর রস। উপাদান দুটি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন তারপর মিশন টি মুখে ভালোভাবে মেখে নিন। সূর্যের তাপের কারণে ত্বকের যে স্থান কালচে হয়ে গেছে সেখানে ব্যবহার করুন। এভাবে 15 মিনিট রাখার পর হালকা গরম পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দুইবার এভাবে ব্যবহার করুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে এক মাসের মধ্যেই সুফল পেতে শুরু করবেন। হলুদের অ্যান্টিবায়োটিক্যাল এবং অ্যান্টি ইন ফ্লামেটরি উপাদান ত্বককে সব ধরনের জীবাণু থেকে দূরে রাখে। সে সঙ্গে ত্বককে দ্রুত ফর্সা করতেও সাহায্য করে এই হলুদ। 

এক টেবিল চামচ দুধ ও এক চা চামচ মধু নিন। এরপর দুধ ও মধু ভালভাবে মিশিয়ে নিন। মেশানো হয়ে গেলে মিশন টি মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন এরপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিন। এটি প্রতিদিন ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন তাতে ত্বক দ্রুত জ্বলে উঠবে। দুধে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ত্বকের রংকে ভেতর থেকে হালকা করে। সেই সঙ্গে এটি ত্বকের বাইরে থেকে আর্দ্র এবং মসৃণ করে তোলে। উদ্দিন ব্যবহার করলে ত্বক আরো জলে উঠবে। 

লেখকের শেষ মন্তব্য

আশা করি আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সকলেই কাল থেকে ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন বা কোন গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাকে জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই আমাকে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং আমার পোস্টটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিবার এবং প্রিয়োজনের সকলকেই স্থায়ীভাবে ফর্সা হওয়ার সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য গুলো জানার সুযোগ করে দিন। আর আমার এই আর্টিকেলটি সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন